দুইখানি ভাই ছিল মোটে ঠাঁই আর সবই গেছে ঋণে
ডাকিল মুমিন (ভয়ে তনু ক্ষীণ), 'এ জমি লইব কিনে।'
কহি মৃদু সুর, 'তুমি হে ভাসুর, তব নাম নিতে নাই
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো জোর চেঁচাবার মত ঠাঁই'
শুনি পীর কহে, 'মালু, জানো তো হে, আছে খিলাফৎখানা
পেলে ওই দুটি সব লোকে জুটি খাবে ইফতারে খানা
কলেজ স্কোয়ারে ঈদগাহ গড়ে জামাতি জলুস হবে
এইটবির মোড়ে লোক জড়ো করে মিলাদ পড়িব সবে
ওটা দিতে হবে।' কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, 'করুন রক্ষে, জলকে তো বলি পানি
চাপাতি মারিলে বোমা ফাটাইলে আমেরিকা বলে থাকি
সম্প্রীতি গীতি এত যে পিরীতি সকলই পড়িল ফাঁকি?'
আঁখি করি লাল হাজী ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে
কহিলেন শেষে দাড়িঢাকা হেসে, 'আচ্ছা সে দেখা যাবে।'
পরে মাস দেড়ে অ্যাপলজি ছেড়ে চাপাতির কোপে কোপে
ঘরছাড়া করে দিল দাড়ি নেড়ে মুমিন আসল রূপে
এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার দল ভারি
সালাফি আসিয়া করে কুর্দ শিয়া সুফিদের মারামারি
ভাবিলাম, দীন আমারে স্তালিন রাখিবে না মোহগর্তে
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল জিবি-টির পরিবর্তে
মুমিনের বেশে ফিরি দেশে দেশে হয়ে লেনিনের শিষ্য
খিলাফৎ নাম হয়েছে কায়েম একি মনোহর দৃশ্য
সবই ইছলামি দেখি আর থামি দু পা থরথর করে
মার্ক্স লেনিন চে বুখারিন পোড়াতেছে ঘরে ঘরে
জুম্মার ঘরে দরগা মাজারে যখন সেখানে ভ্রমি
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারিনে দাঁড়াবার দুটি জমি
হাটে মাঠে বাটে লাথ খেয়ে কাটে বছর পনেরো ষোলো
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়ই বাসনা হলো
নমো নমো নমো, থুক্কু, সালাম, আম্মা বঙ্গভূমি
গঙ্গার তীর বসে আছে পীর, মুরিদও আঙুল চুমি
কলেজ স্কোয়ারে সুমধুর সুরে জিহাদি ওয়াজ চলে
কফি হাউজটা ভেঙে খড়কুটা করেছে নাপাক বলে
অবারিত মাঠ মাজারললাট চুমে তব পদধূলি
প্রেসিডেন্সির মাদ্রাসাটির ছোটো ছোটো ক্লাসগুলি
গ্রিনজোনে কি ও অভ্রংলিহ মসজিদটির চূড়া
দেওয়াল জুড়িয়া আঁকা চাঁদ তারা, কাস্তে হাতুড়ি গুঁড়া
গেটের ওপারে পড়ে একধারে ভাঙা লেনিনের মাথা
শিরক এভাবে ভেঙে দিতে হবে মুমিনের সাফ কথা
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে যাদবপুরের ধামে
রাসবিহারী দক্ষিণে ছাড়ি দক্ষিণাপণ বামে
কী যে আঁকাবাঁকা আরবিতে লেখা পড়িতে নারিনু পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে ঝিলপাড়টির কাছে
যাদবপুরের মক্তবে ঘুরে শীতল হইল দেহ
গাছে গাছে ডালে নরকঙ্কাল, চেনে উহাদের কেহ?
শুধালুম ডেকে কহে গেল লোকে, 'এখানে পড়িত এরা
বোরখা না পরে হিজাব না টেনে ক্যাপ্রি পরিয়া ঘোরা
এই অপরাধে হাজী এসে বাঁধে, উপরি রাখেনি রোজা
কোড়া নাই কাছে তাই গাছে গাছে ঝুলায়ে দিয়েছে সোজা।'
ধিক ধিক তোরে শতধিক ওরে নিলাজ কুলটা ভূমি
যখনি যাহার তখনি তাহার এই বিপ্লবী তুমি
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগী রোজ ফেসবুকহীন
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী হিজাবে কাটাস দিন!
মুমিনী আদরে গরব না ধরে এতই হয়েছ ভিন্ন
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ বামেদের কোনো চিহ্ন
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি, প্রতিবাদী ক্ষুধারাশি
যত হাসো আজ তৌহিদী সাজ, ছিলে দেবী হলে দাসী।
বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারিদিকে চেয়ে দেখি
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সাইনবোর্ডটা, একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা
একে একে মনে উদিল স্মরণে সুখের দিনের কথা
সেই মনে পড়ে বুদ্ধের মারে রাত্রে নাহিকো ঘুম
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি দেয়াল লিখার ধুম
সেই সুমধুর তৃণমূলী সুর তাও দেখি লাগে মিঠে
আজ দেশজোড়া চলিতেছে কোড়া শরীরের গিঁটে গিঁটে
কোথায় বুদ্ধ কোথায় মমতা সব মালাউন খুন
কার নামে গান বাঁধিব স্লোগান ভেবে মুখ হল চুন
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস মেইন গেটের কাছে
একখানা এ কি লিফলেট দেখি এখনো পড়িয়া আছে
ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা
হেনকালে হায় যমদূতপ্রায় আসিল আলেম আলী
টুপি-দাড়ি নেড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি
কহিলাম তবে, 'আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব
অপরাধ বঁধু রয়ে গেছে শুধু ওই হোক কলরব'
চিনিল না মোরে নিয়ে গেল ধরে চাপাতি তুলিয়া হাতে
হাজী উবু হয়্যা দিতেছে ফৎওয়া শত পারিষদ সাথে
আহা এ কি দেখি জুড়াইল আঁখি তিনু ও চাড্ডি মিলে
তওবা করিয়া বসিয়াছে গিয়া মুরিদদিগের দলে
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন 'জবাই করিব তোকে।'
হাজী যত বলে পারিষদ-দলে ততই উঠিছে রুখে
ভয়ে কাঁপে হিয়া 'ক্ষমা চাই মিঁয়া' হাঁটু গেড়ে করজোড়ে
হাজী হেসে খুন, 'শালা মালাউন, ধর ঘাড় নিচু করে'
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি এই ছিল মোর ঘটে
করিয়া হালাল কল্লা নামাল, জিহাদি স্লোগান ওঠে।
This comment has been removed by the author.
ReplyDeleteআহা এ কি দেখি জুড়াইল আঁখি তিনু ও চাড্ডি মিলে
ReplyDeleteতওবা করিয়া বসিয়াছে গিয়া মুরিদদিগের দলে