Thursday, July 28, 2016

হ্যালোউইন



নিশিরাত, বাঁকা দাঁত, ফ্যাকাশে
চুপি চুপি বাদুড়েরা আকাশে, আকাশে
নিশিরাত, বাঁকা দাঁত, ফ্যাকাশে
চুষে চুষে খুন খাবে একা সে, একা সে

ভাঙা বাড়ি, কবেকার সে কবর
হোক ভাঙা, ড্রাকুলা কি আসে না?

আনডেড-এ ভরে গেল এদিগর
ভ্যাম্পায়ার ক্ল্যান করে রচনা

এ জীবনে যত ভূত চেয়েছি
ট্রানসিলভ্যানিয়াতে পেয়েছি, পেয়েছি।

ভ্যাম্পায়ার ভরা পথে চলিতে
হোলি ওয়াটার গেল ফুরায়ে

রোদ নামা পাহাড়ে গোধূলিতে
সিলভার ক্রস পেল আজ কুড়ায়ে

এ জীবনে যত ভূত চেয়েছি
ট্রানসিলভ্যানিয়াতে পেয়েছি, পেয়েছি।



মুখড়া কার্টসিঃ Riturupa
আইডিয়া কার্টসি ও ভ্যাম্পায়ার কার্টসিঃ DebarghaRupama
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়


***
৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৫

Thursday, July 21, 2016

টিপসি বাংলা



বাংলার মুখ আমি খুলিয়াছি, তাই আমি অন্য কোনোরূপ
চাখিতে যাই না আর; অন্ধকারে জেগে উঠে প্যানিক অ্যাটাকে
চেয়ে দেখি, সিজিও কমপ্লেক্সে ঘাপটি মারিয়া থাকে
দুর্মদ সিবিআই- চারিদিকে চেয়ে দেখি মিডিয়ার দল
বিজেপির, অভীকের, বামেদের- করে কোলাহল
এ আকালে আমাদের পাঁচু রায় চুপ করে আছে
আমানত টাকা থেকে না জানি সে কবে ডেলো বাংলোর কাছে

পেটি ভাগাভাগি হত, আহা, সব নেপো খেয়ে গেলো দই
দেখেছিনু, নেত্রীও একদিন ভাগীরথী জলে ভেলা নিয়ে
চৌত্রিশ বছরের দুর্গ যখন ধ্বসিয়া গেছে কড়া গণ্ডায়-
সোনালি ধানের পাশে টাটা ও সালেম বটে দেখেছিল, হায়
এই যে মওকা তাও বুঝেছিল- একদিন সিঙ্গুরে গিয়ে
এখন মজেছি আমি, নিশির কুটুম্ব হয়ে ললাটের দায়
বাংলার শিশি গ্লাস ভাঁটিখানা কোথা গেল; বেড়ি দুই পায়।








***
১২ই ডিসেম্বর ২০১৪

এক খাঁটি ধড়িবাজ



বন্ধুরা, কমরেডরা, অনেক আদর। শত্রুরা, অনেক খিস্তি। দ্বন্দ্বমূলক খিস্তিবাদ। একটা গান লিখে দেখান এই মোল্লার মত। য়্যাখনো ব্যাণ্ডউইদ কাঁপে রাতের দিকে, টরেন্ট চালানো থাকলে ফেসবুক খুলতে চায় না। তবু লিখুন। দেখি কত বড় বাপের ব্যাটা এসেছেন। একটা গান। য়ামি একটা লিখলাম।


এক খাঁটি ধড়িবাজ কানে গোঁজা ঘাসফুল
জামাতি খেয়াল গান, তলে তলে তৃণমূল

বয়স যতই হোক কলম চালাচ্ছে
জামাতের নায়েবরা লোকটাকে ডাকছে
এগারোয় বিক্ষোভ, দুহাজার চোদ্দ
ডিগবাজি খেতে শিখে নিয়েছে সে সদ্য

নবী যত গর্জান চ্যালা তত ধমকায়
কানাডায় ডেডপুল প্রভূত আদর পায়
শান দেওয়া মাঞ্জায় দ্রুপদ ভোঁকাট্টা
লাইক তবুও দেখি টেনেটুনে আটটা

ক্যাডার বাবুটি ভাবে রেট কমে যাচ্ছে
তেহরিক-ই-সুমনের গদি ফসকাচ্ছে
"নবীজির দরবারে খাতির ঘোচাবি কি?"
ক্যাডার বাবুটি দেন ডিলিটের হুমকি

নবীর ফতোয়া শুনে সম্বিৎ ফিরে পায়
কেউটেরা কৃমি হয়, নলকূপ কেঁদে যায়

নবী একা পারবে কি এই বোঝা টানতে
সুমনসেবকরা পারবে কি জানতে
যে লোকটা প্রাণপণে ভাট বকে যাচ্ছে
পেট্রোডলার তাকে রসদ পাঠাচ্ছে
এক খাঁটি ধড়িবাজ, কানে গোঁজা ঘাসফুল
শিরদাঁড়া জমা রেখে আবার সে তৃণমূল
এক খাঁটি ধড়িবাজ...




***
১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

Monday, July 11, 2016

পাগলী তোমার সঙ্গে রিভিজিটেড



পাগলী তোমার সঙ্গে লিফলেট জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে ব্র্যাণ্ডনেম কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে পোস্টার জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে মার্লবরো কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে বিপ্লব জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সেলফিতে কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে স্ট্রিটকর্নার জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে পিটারক্যাট কাটাবো জীবন


দলবৃত্তে পাখিপড়া কেটে যাবে এই দিনকাল 
স্বপক্ষে সকলে শ্রেষ্ঠ, মতান্তর হলেই দালাল 
পাগলী তোমার সঙ্গে পোস্ট চাই জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে দলাদলি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে লিটলম্যাগ জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে জেটল্যাগ কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে অবস্থান জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে বারিস্তা কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে হাল্লাবোল জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে হুইস্কিসোডা কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে এলজিবিটি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সাউথসিটি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে 'জাস্ট ফ্রেণ্ড' জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে 'চলো শুই' কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে গাড়ি রোকো জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে রেকো চেয়ে কাটাবো জীবন


বছর পাঁচেক যাবে, চোখে ফুটবে জ্ঞানবৃক্ষ আলো 
কনভোকেশন সেরে "ভাবছি ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো" 
পাগলী তোমার সঙ্গে বিজি আছি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে পরে যাবো কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে বস্ত্রদান জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে লিভাইস কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে গণতন্ত্র জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে হায়ারার্কি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে নন্দীগ্রাম জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে ফ্লিপকার্ট কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে নিয়মগিরি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সিঙ্গাপুর কাটাবো জীবন


বুর্জোয়া শিক্ষা হবে সমালোচনায় ছারখার 
টেবিল চাপড়ে পার করে দেবো গোটা সেমেস্টার 
পাগলী তোমার সঙ্গে মতবাদ জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে তোতাপাখি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে "ভেঙেদ্দাও" জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে আইনক্স কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে "দূর হটো" জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে আইফোন কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে নবারুণ জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সাল্লুভাই কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে জেণ্ডার ইস্যু জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে 'চোপ মাগী' কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে সংগ্রাম জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে 'ভুল ছিলো' কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে বয়কট জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে জিআরই কাটাবো জীবন


নেচে উঠবে বোকা লোকে, জলে দেবে দু-চার বছর 
কারা যাবে ডালে ডালে, আমি আছি পাতার ওপর 
পাগলী তোমার সঙ্গে এমএনসি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে এনআরআই কাটাবো জীবন


উৎসর্গঃ হার্ভি ডেন্ট অকৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ জয় গোঁসাই


জীবিত বা মৃত কোনো ব্যক্তির সাথে অনিচ্ছাকৃত মিল থাকলে (তাদের) ক্ষমা করে দেবেন।






-২৩শে জুলাই, ২০১৫

একটি ছ্যাপলিটিক্যাল রসিকতা



একবার এক চাড্ডি, এক মুমিন আর এক লিবারবাল গেছে তপস্যা করতে, যার যার ঈশ্বরের সন্ধানে। ধ্যানফ্যান করছে সবাই।

মুমিনের বিশ্বাস সবথেকে বেশি, একটু পরেই রসুল এসেছেন বোররাকে চড়ে।

-কি চাই, বান্দা?
-হজরত গরিবপরবর, এমন একটা চাপাতি দিন যা দিয়ে এক কোপে একশো কাফেরের কল্লা কাটা যাবে।

রসুল জোব্বার ভিতর থেকে চাপাতি বার করে দিয়ে ফিরে গেলেন।

তারপর এলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম রাম, ধনুক ফনুক নিয়ে। কেলটে মত দেখতে, চাড্ডি প্রথমটা শালা দলিতের বাচ্চা বলে ক্যালাতে যাচ্ছিল। তারপর নবদূর্বাদলশ্যাম মনে পড়ায় থেমে গেল।

-কি চাই বৎস?
-প্রভো, দলে দলে হিন্দু নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে। এদের তোল্লাই খেয়ে দলিতগুলোরও হেবি বাড় বেড়েছে। এদের সবক শেখাতে কিছু অস্ত্রশস্ত্র দিন আমাদের।

রাম কোমর থেকে শম্বুক'স বেন বলে একটা তরবারি বার করে দিয়ে চলে গেলেন।

লিবারবাল বসে আছে তো বসেই আছে। বিশ্বাস কম, কনফিউশন বেশি বেচারার। কেউ আর আসে না। শেষে যখন উঠি উঠি করছে, তখন দেখে রাবণের মত দশমাথার কে একটা আসছে। কাছে আসতে দেখে একই দেহে মার্কস, লেনিন, বাকুনিন, মাও, হো চি মিন, এনভর হোজ্জা, স্তালিন, ট্রটস্কি, শিবদাস, চারুবাবু ইত্যাদি সবার মুণ্ডু। লিবারবাল গেছে ঘাবড়ে।

-এত মাথা কেন কমরেড?
-আসলে তুই কোন ফ্যাকশনের বুঝতে পারিনি তো, স্তালিন সেজে এলাম আর তুই ট্রটস্কাইট বলে বর নিলি না হয়তো। তাই রিস্ক নিইনি, বিশ্বরূপে এসেছি। বল কি চাই?
-আজ্ঞে কমরেড, মানে কমরেড...
-নির্ভয়ে বল। দণ্ড মুকুট ছত্র সিংহাসন বিধানসভা কমিন্টার্ন যা চাস...
-আরেকটা এক্সট্রা জিভ দেবেন কমরেড? ইসলামিস্টদের পা চাটবো।

Friday, July 8, 2016

যাদববিজয়

কিন্তু কী করিয়া দেশদ্রোহীদের খবর পাওয়া যাইবে? একশত মিটার ব্যারিকেড ডিঙাইতে পারিলে তবে তো যাদবপুর। আর সেই যাদবপুরে যাইলে তবে তো দেশদ্রোহীদের ঠ্যাং ভাঙিয়া লওয়া যায়। বানরেরা থানার ধারে আসিয়া অবাক হইয়া বসিয়া রহিল। এত বড় ছাত্রছাত্রী সমাবেশ পার হইয়া দেশপ্রেম রমণ করিতে যাওয়া বড়ই কঠিন দেখা যাইতেছে। এ কাজ কে করিবে?

তখন কৈলাস বলিল, তোমরা তো সকলেই খুব বড় বীর। বল দেখি ভাই, কে কতদূর লাফাইতে পার?

কৈলাসের কথা শুনিয়া দেবশ্রী বলিল, 'আমি ক্রেডিট ওয়াচ অব্দি লাফাইতে পারি।' রাহুল বলিল, 'আমি স্টেট ব্যাঙ্কের এটিএম অব্দি লাফাইতে পারি।' সুবীর বলিল, 'আমি ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্ট অব্দি লাফাইতে পারি।' জয় ব্যানার্জি হুঙ্কার ছাড়িয়া বলিলেন, 'আমি দক্ষিণাপণ অব্দি লাফাইতে পারি', লোকে তাহাকে 'থাম থাম, উহা উল্টোদিকে' বলিয়া বার করে দিল। রূপা বলিল, 'আমি পলিটেকনিক অব্দি লাফাইতে পারি, কিন্তু ভ্যানিটি ভ্যান ব্যারিকেড পার করিয়া লইয়া কে যাইবে?'

সকলের কথা শুনিয়া কৈলাস বলিল, 'আমি একশত মিটার ব্যারিকেড ডিঙাইতে পারি। কিন্তু ফিরিয়া আসিতে পারিব কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ হইতেছে।'

তখন দিলীপ বলিল, 'হে খোট্টাপুত্র, তুমি ইচ্ছা করিলে লাফাইয়া প্রেসিডেন্সিতেও গিয়া পড়িতে পার, কিন্তু নিজে তাহা করিতে যাইবে কেন? মাওড়া খোট্টার কি পরিশ্রম সাজে? তুমি হুকুম দিবে, বাঙালি দালালগুলা কাজ করিবে।'

***
অনুপ্রেরণায় যাদবপুরের জনৈক দেশদ্রোহী এবং উপেন্দ্রকিশোর বলে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। উপেন্দ্রকিশোর সম্ভবত পাকিস্তানি, কারণ তার বেশ লম্বা দাড়ি ছিল।

মুমিউনিস্ট সংহিতা


দুইখানি ভাই ছিল মোটে ঠাঁই আর সবই গেছে ঋণে
ডাকিল মুমিন (ভয়ে তনু ক্ষীণ), 'এ জমি লইব কিনে।'
কহি মৃদু সুর, 'তুমি হে ভাসুর, তব নাম নিতে নাই
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো জোর চেঁচাবার মত ঠাঁই'
শুনি পীর কহে, 'মালু, জানো তো হে, আছে খিলাফৎখানা
পেলে ওই দুটি সব লোকে জুটি খাবে ইফতারে খানা
কলেজ স্কোয়ারে ঈদগাহ গড়ে জামাতি জলুস হবে
এইটবির মোড়ে লোক জড়ো করে মিলাদ পড়িব সবে
ওটা দিতে হবে।' কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, 'করুন রক্ষে, জলকে তো বলি পানি
চাপাতি মারিলে বোমা ফাটাইলে আমেরিকা বলে থাকি
সম্প্রীতি গীতি এত যে পিরীতি সকলই পড়িল ফাঁকি?'
আঁখি করি লাল হাজী ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে
কহিলেন শেষে দাড়িঢাকা হেসে, 'আচ্ছা সে দেখা যাবে।'


পরে মাস দেড়ে অ্যাপলজি ছেড়ে চাপাতির কোপে কোপে
ঘরছাড়া করে দিল দাড়ি নেড়ে মুমিন আসল রূপে
এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার দল ভারি
সালাফি আসিয়া করে কুর্দ শিয়া সুফিদের মারামারি
ভাবিলাম, দীন আমারে স্তালিন রাখিবে না মোহগর্তে
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল জিবি-টির পরিবর্তে
মুমিনের বেশে ফিরি দেশে দেশে হয়ে লেনিনের শিষ্য
খিলাফৎ নাম হয়েছে কায়েম একি মনোহর দৃশ্য
সবই ইছলামি দেখি আর থামি দু পা থরথর করে
মার্ক্স লেনিন চে বুখারিন পোড়াতেছে ঘরে ঘরে
জুম্মার ঘরে দরগা মাজারে যখন সেখানে ভ্রমি
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারিনে দাঁড়াবার দুটি জমি
হাটে মাঠে বাটে লাথ খেয়ে কাটে বছর পনেরো ষোলো
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়ই বাসনা হলো


নমো নমো নমো, থুক্কু, সালাম, আম্মা বঙ্গভূমি
গঙ্গার তীর বসে আছে পীর, মুরিদও আঙুল চুমি
কলেজ স্কোয়ারে সুমধুর সুরে জিহাদি ওয়াজ চলে
কফি হাউজটা ভেঙে খড়কুটা করেছে নাপাক বলে
অবারিত মাঠ মাজারললাট চুমে তব পদধূলি
প্রেসিডেন্সির মাদ্রাসাটির ছোটো ছোটো ক্লাসগুলি
গ্রিনজোনে কি ও অভ্রংলিহ মসজিদটির চূড়া
দেওয়াল জুড়িয়া আঁকা চাঁদ তারা, কাস্তে হাতুড়ি গুঁড়া
গেটের ওপারে পড়ে একধারে ভাঙা লেনিনের মাথা
শিরক এভাবে ভেঙে দিতে হবে মুমিনের সাফ কথা
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে যাদবপুরের ধামে
রাসবিহারী দক্ষিণে ছাড়ি দক্ষিণাপণ বামে
কী যে আঁকাবাঁকা আরবিতে লেখা পড়িতে নারিনু পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে ঝিলপাড়টির কাছে


যাদবপুরের মক্তবে ঘুরে শীতল হইল দেহ
গাছে গাছে ডালে নরকঙ্কাল, চেনে উহাদের কেহ?
শুধালুম ডেকে কহে গেল লোকে, 'এখানে পড়িত এরা
বোরখা না পরে হিজাব না টেনে ক্যাপ্রি পরিয়া ঘোরা
এই অপরাধে হাজী এসে বাঁধে, উপরি রাখেনি রোজা
কোড়া নাই কাছে তাই গাছে গাছে ঝুলায়ে দিয়েছে সোজা।'
ধিক ধিক তোরে শতধিক ওরে নিলাজ কুলটা ভূমি
যখনি যাহার তখনি তাহার এই বিপ্লবী তুমি
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগী রোজ ফেসবুকহীন
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী হিজাবে কাটাস দিন!
মুমিনী আদরে গরব না ধরে এতই হয়েছ ভিন্ন
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ বামেদের কোনো চিহ্ন
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি, প্রতিবাদী ক্ষুধারাশি
যত হাসো আজ তৌহিদী সাজ, ছিলে দেবী হলে দাসী।


বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারিদিকে চেয়ে দেখি
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সাইনবোর্ডটা, একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা
একে একে মনে উদিল স্মরণে সুখের দিনের কথা
সেই মনে পড়ে বুদ্ধের মারে রাত্রে নাহিকো ঘুম
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি দেয়াল লিখার ধুম
সেই সুমধুর তৃণমূলী সুর তাও দেখি লাগে মিঠে
আজ দেশজোড়া চলিতেছে কোড়া শরীরের গিঁটে গিঁটে
কোথায় বুদ্ধ কোথায় মমতা সব মালাউন খুন
কার নামে গান বাঁধিব স্লোগান ভেবে মুখ হল চুন
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস মেইন গেটের কাছে
একখানা এ কি লিফলেট দেখি এখনো পড়িয়া আছে
ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা


হেনকালে হায় যমদূতপ্রায় আসিল আলেম আলী
টুপি-দাড়ি নেড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি
কহিলাম তবে, 'আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব
অপরাধ বঁধু রয়ে গেছে শুধু ওই হোক কলরব'
চিনিল না মোরে নিয়ে গেল ধরে চাপাতি তুলিয়া হাতে
হাজী উবু হয়্যা দিতেছে ফৎওয়া শত পারিষদ সাথে
আহা এ কি দেখি জুড়াইল আঁখি তিনু ও চাড্ডি মিলে
তওবা করিয়া বসিয়াছে গিয়া মুরিদদিগের দলে
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন 'জবাই করিব তোকে।'
হাজী যত বলে পারিষদ-দলে ততই উঠিছে রুখে
ভয়ে কাঁপে হিয়া 'ক্ষমা চাই মিঁয়া' হাঁটু গেড়ে করজোড়ে
হাজী হেসে খুন, 'শালা মালাউন, ধর ঘাড় নিচু করে'
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি এই ছিল মোর ঘটে
করিয়া হালাল কল্লা নামাল, জিহাদি স্লোগান ওঠে।

Friday, June 17, 2016

সব চরিত্র কাল্পনিক



১.
তিনুচাঁদ ডিরোজিওকে মারিয়াছে- তাই ডিরোজিও হেডডাইনি মহাশয়ার কাছে নালিশ করিয়াছে।
হেডডাইনি রকিং চেয়ারে দোল খেতে খেতে বলিলেন, "কি হে তিনুচাঁদ, তুমি ডিরোজিওকে মেরেছ?"
তিনুচাঁদ বলিল, "আজ্ঞে না, মারব কেন? পোস্টার ছিঁড়ে দিয়েছিলাম, চড়থাপ্পড় মেরেছিলাম, আর একটুখানি চুল ধরে ঝাঁকিয়ে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলাম। আর মেয়েদের, হেঁহেঁ..."
হেডডাইনি বলিলেন, "কেন অমন করেছিলে?"
তিনুচাঁদ খানিকটা আমতা আমতা করিয়া পশ্চাদ্দেশ চুলকাইয়া বলিল, "আজ্ঞে, ওরা যে খালি খালি গুরুমাকে অপমান কচ্ছিল।"
হেডডাইনি জিজ্ঞাসা করিলেন, "আমাদের গুরুমাকে?"
"হ্যাঁ।"
"পোস্টার দেখিয়েছে?"
"হ্যাঁ"
"গান গেয়েছে?"
"হ্যাঁ"
"সিয়া রাম। স্লোগান দিয়েছে?"
"হ্যাঁ।"
"আর?"
"বার বার ঘ্যান ঘ্যান করে দশই এপ্রিল দশই এপ্রিল বলছিল, তাই আমার রাগ হয়ে গেল।"
ডাইনিমহাশয়া তাহার গাল ধরিয়া বেশ ভালোরকম নাড়াচাড়া দিয়া বলিলেন, "সোনা দালাল। লক্ষ্ণী দালাল। এমাসে তোমার ভাতার টাকা বাড়িয়ে দেবো।"

ডিরোজিও বলিল, "মেয়েদের মলেস্ট করা হয়েছে..."
হেডডাইনি দাঁত বাহির করিয়া বলিলেন, "মলেস্ট বললেই তো আর মলেস্ট হয় না। আগে দেখতে হবে ভগ্নাংশ না ত্রৈরাশিক। তারপর জানতে হবে ওদের মলেস্ট না আমাদের মলেস্ট। তারপর বলতে হবে কে করেছে, আর কি কি করেছে।"

ডিরোজিও বলিল, "আমরা আপনার পদত্যাগ দাবি করছি।"
হেডডাইনি গদিমোড়া চেয়ারে দুলিতে দুলিতে বলিলেন, "তোমরা পঁচিশ জন কি বলছো তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রী আমাকে চায় (পেছনে মৃদুভাবে 'হাওয়ামে উড়তা যায়ে মেরা লাল দুপাট্টা মলমলকা' বাজিয়া উঠিল), আমি কোত্থাও যাবো না।"

পিছনে দাঁড়াইয়া বড়ো মেজো সেজো দালালরা বলিল, কেয়াবাৎ কেয়াবাৎ।

২.

মিডিয়া তিনুচাঁদকে জিজ্ঞাসা করিল, "হ্যাঁ হে তিনুচাঁদ, তুমি খামখা ডিরোজিওকে মারলে কেন?"
তিনুচাঁদ গুটখার পিক ফেলিয়া বলিল, "খামকা মারব কেন? কেন মেরেছি মাওমাকুর বাচ্চাদেরই জিজ্ঞেস করুন না।"
ডিরোজিওকে জিজ্ঞাসা করিতে সে বলিল, "খামকা নয়তো কি? তুই দুশো কোটির মুজরোয় গড়বা নাচছিস, নাচ, আমায় বাপু তবলা বাজাতে বলিস কেন? আর যদি বললি, বাজাবো না বলে প্রতিবাদ করলে তাই নিয়ে আবার মারামারি করতে এলি কেন?"
মিডিয়া হলুদ কালির কলম খুলিয়া বসিল। আর সকলে বলিল, "আহা কি হয়েছে খুলেই বলো না।"


ডিরোজিও বলিলঃ

তিনুচাঁদ মুজরোর ব্যাকগ্রাউণ্ডে ঝোলাবার জন্য একটা ছবি এঁকেছে, ছবির নাম সেন্টার ফর এক্সেলেন্স। সেটা দেখিয়ে আমায় জিজ্ঞাসা করল, কেমন হয়েছে?
আমি বললাম, বললাম, এটা কি এঁকেছ? লোকজন ছেনি হাতুড়ি নিয়ে বসে কলেজবাড়িটাকে ভাঙছে ক্যানো? আর প্রফেসররা এমন দুয়োরানির মত পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে কি কারণে?
তিনুচাঁদ বলল, -না না, ভাঙছে কোথায়? ও তো রেনোভেশন হচ্ছে, ডুপ্লে। আর প্রফেসররা পালিয়ে যাচ্ছে না তো, বেশি টাকার চাকরি পেয়ে সেই লোভে চলে যাচ্ছে। সে যাকগে, কেউ অপরিহার্য নয়।
আমি বললাম, ছেলেগুলোকে অমন গলায় কাঁটামারা বকলস পরিয়ে রেখেছো কেন? আর অথরিটি লাঠি হাতে ডিগবাজি খাচ্ছে কেন?
তিনু বলল, আহা তা কেন, ওটা তো বকলস নয়, পঁচাত্তর পার্সেন্ট। মানে রেগুলেশন আরকি। আর ওটা বুঝি লাঠি হল, ও তো ডিসিপ্লিন। সেন্টার ফর এক্সেলেন্সে এইটুকু থাকবে না? আদর দিয়ে দিয়ে ব্যাটার বাঁদর হয়ে যাচ্ছিল।
আমি বললাম, তাই বুঝি? কিন্তু ওখানে পুলিশ প্ল্যাকার্ড-পোস্টার ছিঁড়ে ছেলেমেয়েদের মারধোর করছে কেন? আর এদিকে একটা ছেলে শিক্ষামন্ত্রীকে জুতো দেখাচ্ছে সেটাই বা কি ব্যাপার?
তিনু বলল, কোথায় আবার মারধর দেখলে? এখানে অভব্য ছাত্রছাত্রীদের একটা চক্রান্ত হচ্ছিল পুলিশ সেটাকেই রুখে দিয়েছে মাত্র। আর ওটাকে বুঝি জুতো দেখানো বলছ? ও তো আমাদের তিনোছিপি.. থুড়ি, থুড়ি, না না... ম্যাও পুষি, গুণ্ডা ছাত্রছাত্রীরা মেরে ওর জামা-জুতো ছিঁড়ে দিয়েছে তাই শিক্ষামন্ত্রীকে মনের দুঃখে সেসব দেখাতে গিয়েছিল।
আমি বললাম, তা হবে। আমি ওসব বুঝিটুঝি না। আচ্ছা ওই হাওয়াই চপ্পল পরা মেয়েমানুষটি যে ওদের তেড়ে মারতে আসছে ওটি কে? আর পেছনে আর একজন পেটমোটা মহিলা হাতে চেক ধরে ওনাকে বার বার সেজদা করছে তিনিই বা কে?
তিনুচাঁদ বলল, তুমি তো আচ্ছা মুখ্যু হে। উনিই তো আমাদের হেডডাইনি। সেজদা আবার কি কথা, টাকা পেয়ে উনি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন মাত্র। আর হাওয়াই চপ্পল কাকে বলছ! ওই তো স্বয়ং নিওকমিউনিজম, বুঝতে পারছ না?
বলে বার বার উদ্দেশ্যে নমস্কার করতে লাগল।


৩.

ডিরোজিও বলিলঃ

তখন আমি বললাম, "আচ্ছা এক কাজ কর না কেন ভাই, ওটাকে সেন্টার ফর এক্সেলেন্স না করে কসাইখানা বানাও না কেন? নিউকমিউনিজমকে চটির বদলে একটা ছোট গোঁফ দিয়ে ফ্যাসিবাদ বানিয়ে দাও। ছেনি হাতুড়িগুলো পাল্টে মাংস কাটার ছুরি করে দাও। কলেজবাড়িটার নাম মুছে ঘাসফুল চিকেন শপ নাম দাও। আর ছেলেমেয়েগুলোকে পালক টালক দিয়ে মুরগি বানিয়ে দাও, গলায় কাঁটামারা বকলস বেশ মানিয়ে যাবে। লাঠি হাতে অথরিটিটাকে করে দাও কসাই, ওদের তাড়িয়ে খোঁয়াড়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ আর সাদা পোশাকে ওই কাদের দেখছি ওরা হচ্ছে খদ্দের, শুক্কুরবার এসেছে উইকেণ্ডের ছুটির জন্য মাংস কিনতে। তিনোছিপি না ম্যাওপুষি কি বললে সেখানে তো দেখছি মোটে দুজন আছে, ওদের মাথায় মাথায় জুড়ে দাঁড়িপাল্লা করে দাও। নিরপেক্ষ ওজন পাওয়া যাবে। ম্যাওপুষির জুতোটাকে হাঁড়ি করে দাও আর টাকার চেকটাকে খুন্তি, হেডডাইনি ফ্যাসিবাদের পায়ের তলায় ঝুঁকে বসে মাংসের কালিয়া রান্না করছেন।" তিনুচাঁদ ক্ষেপে গিয়ে বলল, "এক থাপ্পড় মারব হারামজাদা, জানিস না উনি নিরামিষ খান?"

আমি বললাম, "তাহলে ভাই আর এক কাজ করো। ওটাকে বেঙ্গল লিডস করে দাও। তাহলে নিওকমিউনিজমকে আর বদলাতে হবে না, উনি ইনভেস্টমেন্ট আনতে যাচ্ছেন। প্রফেসরগুলোকে করে দাও শিল্পপতি। ছেলেমেয়েগুলোকে কোটপ্যান্ট পরিয়ে পিএ আর ডেটা অ্যানালিস্ট করে দেওয়া যাবে। আর কলেজটা হবে অডিটোরিয়াম, তার দরজায় হেডডাইনিকে বসিয়ে দিও, শিল্পপতি কমিউনিটির আবেগের স্বার্থে। আর ঐ যে বকলস আর লাঠি, ওগুলো একটু বদলিয়ে দিলেই জিডিপি গ্রোথের চার্ট আর ডায়াগ্রাম হয়ে যাবে। ম্যাওপুষিরা হবে তাজা ছেলে, উন্নয়ন হলে এদের সিণ্ডিকেট করে দুপয়সা আসবে। প্ল্যাকার্ড পোস্টারগুলো আদিবাসীদের, শালারা ডেভলপমেন্টের বিরোধিতা করতে এসেছে। আর পুলিশ তো আছেই, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে, বাস।"

কথাটা তিনুচাঁদের পছন্দ হল না। তাই আমি অনেক ভেবেচিন্তে আবার বললাম, "তাহলে বাংলা-রাজস্থান মৈত্রী উদযাপন করো না কেন? ওই কলেজবাড়িটা হবে উত্তর কলকাতার পুরোনো চকমিলানো বাড়ি, এখন ভেঙে মাড়বারবাসীদের হাউজিং কমপ্লেক্স হয়েছে। পুলিশদের করে দাও এ রাজ্যের মেহমান, তাদের খাতিরদারি করা হচ্ছে। প্রফেসররা বাঙালি মধ্যবিত্ত, তারা উন্নয়ন আর উদারতার স্বার্থে কলকাতা ছেড়ে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পঁচাত্তর পার্সেন্টটা হল কলকাতার ভাগাভাগি, কতটা কাদের থাকবে তাই নিয়ে। প্ল্যাকার্ড পোস্টারগুলো কমিউনাল বাঙালি প্রাদেশিকদের, ওসব ছিঁড়ে দেওয়াই ভালো। হেডডাইনিকে করে দাও মাড়বারের রাজকন্যা মধুশ্রী আর নিউকমিউনিজম হবে রানা চণ্ড, বেশ একটা রোম্যান্টিক হিস্টরিক্যাল অ্যাঙ্গল হবে।" চেক আর ম্যাওপুষিটাকে কি রকম করতে হবে সেইটা বলতে যাচ্ছি, এমন সময় তিনুচাঁদ আমায় ধাক্কা দিয়ে বলল, "থামো থামো, মধুশ্রী তো চণ্ডের সৎমা। শেষে অশ্লীলতার দায়ে আনন্দবাজার নিউজ করে দেবে।"

আমি বললাম, "অত রাগ কর কেন ভাই? আমি তো আর টাকা দিচ্ছি না যে আমার পরামর্শ মতো তোমাকে চলতে হবে। পছন্দ হয় করো, না হয় কোরো না, বাস। এর মধ্যে আবার রাগারাগি কেন? আমার কথামতো না করে অন্য কিছু একটা করো না। মনে কর, ওটাকে শহীদস্মরণ জনসভা করলেও তো হয়। কলেজবাড়িটাকে মহাকরণ করে দাও। পোস্টার প্ল্যাকার্ড হাতে যারা তাদের যুব কংগ্রেস করে দাও আর পুলিশ তো সব জমানাতেই পুলিশ। ছেলেমেয়েগুলোকে চেয়ার করে দাও আর লাঠিটাকে রুমাল; অথরিটি হলেন সুবোধ সরকার, মুছে দিচ্ছেন। আর হেডডাইনিকে একটু দাড়িগোঁফ দিয়ে ডহরবাবু করে এঁকে দাও আর এই নিওকমিউনিজমের দিকে কতগুলো ক্যাডার..." কথাটা ভালো করে বলতে না বলতেই তিনুচাঁদ আমার কান ধরে মারতে লাগল। আচ্ছা দেখ দেখি কি অন্যায়। আমি বন্ধুভাবে দুটো পরামর্শ দিতে গেলাম, তা তোমার পছন্দ হয়নি বলেই আমায় মারবে? যা বলেছি সব শুনলে তো? এর মধ্যে এত রাগ করবার কি হল বাপু?

*****


মহম্মদ জাফর ইকবালের একটি উপন্যাসে, পাকিস্তান আর্মির এক মেজর একজন রাজাকারকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, "এই দেশের মানুষ যদি কোনোদিন আমাদেরও ক্ষমা করে, তারা কোনোদিন তোমাদের ক্ষমা করবে না।" রাজাকারটি দৃশ্যত মাথা নেড়েছিল, প্রকৃতপ্রস্তাবে ল্যাজ।

প্রেসিডেন্সির ভিতরে থাকা দালালদের, প্রেসিডেন্সি, কোনোদিন, ক্ষমা করবে না।

এমিল জোলাকে কোট করে বলি, J'accuse.

গোরস্থানে সাবধান অথবা তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী

১. মধ্য য়ুরোপের একটি বিখ্যাত শহরের আউটস্কার্ট। হাইওয়ের থেকে কিছু দূরে, বিশাল বড় বড় গাছের ছায়া ঘেরা একটি সুন্দর সমাধিক্ষেত্র। বহুদূর থেকে এ...