Sunday, April 23, 2017

গোরস্থানে সাবধান অথবা তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী

১.
মধ্য য়ুরোপের একটি বিখ্যাত শহরের আউটস্কার্ট। হাইওয়ের থেকে কিছু দূরে, বিশাল বড় বড় গাছের ছায়া ঘেরা একটি সুন্দর সমাধিক্ষেত্র। বহুদূর থেকে এক ভদ্রলোক বেড়াতে এসেছেন ওই দেশে। দেশে থাকতে অনেক নাম শুনেছেন এই জায়গাটির, তাই গাইডকে নিয়ে তিনি দেখতে এসেছেন ওই সমাধিক্ষেত্র।

এই সমাধিক্ষেত্রটি কেন এত বিখ্যাত? কারণ, দিকপাল সব সঙ্গীতশিল্পীদের সমাহিত করা হয়েছে এখানে। জায়গাটি তাঁদের স্মৃতিধন্য। আরো একটি আশ্চর্য ব্যাপার, অলৌকিক বা কাকতালীয় যাই হোক, প্রতিটি সমাধির ওপরেই জন্ম নিয়েছে একটি করে ফুলের গাছ। সাদা ফুলের আদরে প্রায় ঢেকে থাকে সমাধিগুলি। প্রকৃতির নিজের হাতে ছড়িয়ে দেওয়া সেই পুষ্পাঞ্জলির পাশে ম্লান হয়ে যায় দূরদূরান্তর থেকে আসা ভক্তদের ফুলের শ্রদ্ধার্ঘ্য।

গাইড ভদ্রলোকটিও এই শহরেরই মানুষ। গানবাজনা বিষয়ে তাঁরও জ্ঞান কিছু কম নয়। দুজনে সঙ্গীতশিল্পীদের কাজ নিয়ে কথা বলতে বলতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন সমাধিক্ষেত্রটির একপ্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে। কদিন আ্গেই এক শিল্পী, বয়সে তিনি প্রায় তরুণই বলা চলে তখনো, দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। তাঁর সমাধির সামনে দুজনে বিষণ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, হঠাৎ টুরিস্ট ভদ্রলোকের মনে পড়ল আর একজন প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর কথা। আজ থেকে বছর পঁচিশ আগে তাঁর একটি অ্যালবাম বেরিয়েছিল, একা হাতে তা পাল্টে দিয়েছিল গানের মানচিত্র। তরুণতর প্রজন্মগুলিকে ছুঁয়ে সেই গানগুলি চলে গিয়েছিল দিগ্বিজয়ে। কিছুদিনের জন্য জনপ্রিয়তায় সবাইকে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন সেই গায়ক। অনেকই দিন হল, মারা গিয়েছেন তিনি। ট্যুরিস্ট অনুরোধ করলেন গাইডকে, একবার তাঁর সমাধিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আজকের দিনে তিনি তাঁর প্রিয় গায়কের সমাধিতে দাঁড়িয়ে স্মরণ করবেন সেই কৈশোরের দিনগুলি, যখন সেই অ্যালবাম তার সমস্ত ঐশ্বর্য নিয়ে চারিয়ে গিয়েছিল তাঁদের প্রজন্মের মধ্যে।

২.
এতক্ষণ গাইড হাসিমুখে ভদ্রলোককে নিয়ে গেছেন যেখানে তিনি যেতে চান। কিন্তু এইবার হঠাৎ দেখা গেল, তাঁর মুখটা ম্লান হয়ে গেছে। কথা ঘোরাবার চেষ্টা করলেন গাইড, ভদ্রলোককে নিয়ে যেতে চাইলেন অন্য আরো কয়েকজন প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর কাছে। কিন্তু ট্যুরিস্ট নাছোড়বান্দা। শেষে হার মানতে হল গাইডকে। ট্যুরিস্টকে তিনি নিয়ে গেলেন বেশ কয়েকটি গাছ দিয়ে আড়াল করে রাখা সেই বিশেষ সমাধিটির দিকে।

দৃশ্যটি দেখে চোখে জল এল ট্যুরিস্টের। এ কী অমানবিক বর্বরতা। এই সমাধিটির পাশে কোনো ফুলের গাছ তো নেইই, এমনকি সমাধির ওপরে কোনো পাকা আচ্ছাদনও জোটেনি। অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে মাটি খুঁড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে কফিন। উপরের কাঁচা মাটি লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে, দেখে মনে হয় মৃতদেহ চোরেরা সমাধিটিকে খুঁড়তে চেষ্টা করেছে বেশ কয়েকবার। ট্যুরিস্ট ক্রুদ্ধ হয়ে ফিরলেন গাইডের দিকে, "এ কি? এই অবস্থা কেন ওঁর সমাধির?"

গাইড বুকে ক্রস আঁকতে আঁকতে জবাব দিলেন, "নিয়তি!"

"সে আবার কি? মৃত্যুর পরেও কারা করল ওঁর এমন অবমাননা? মানছি, উনি জীবনে কিছুটা দুর্মুখ ছিলেন। সকলকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিতে পারেননি সব সময়, উদ্ধত ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সেসব সীমাবদ্ধতা নিয়েই তো দোষে গুণে মানুষ। মৃত্যুর পরেও সেটুকু ভুলে থাকতে পারেননি আপনারা? এইভাবে দিনের পর দিন অসম্মান করে চলেছেন মানুষটাকে?"

গাইড ট্যুরিস্টের দুটি হাত ধরে বললেন, "আপনি এখান থেকে চলুন। আমি আপনাকে সমস্ত বুঝিয়ে বলছি। ওই দেখুন, বিকেল হয়ে আসছে, এখানে আর দাঁড়াবেন না অনুগ্রহ করে।"
গাইডের মুখের ওপর এমন একটা আন্তরিক আতঙ্কের ছাপ পড়ল যে ট্যুরিস্ট আর জেদ করতে পারলেন না। সমাধিস্থলের গেটের দিকে হাঁটতে হাঁটতে তিনি খানিকটা অবাক হয়েই বললেন, "কি ব্যাপার?"

৩.
গাইড বলতে শুরু করলেনঃ
"আপনি জানেন নিশ্চয়ই, আজ থেকে কয়েক বছর আগে যখন ওঁর মৃত্যু হয়, সেই ঘটনাটি সেভাবে কোনো মিডিয়াতে হেডলাইন হয়নি। ওঁর লক্ষ লক্ষ ভক্তের অনেকে জানতেই পারেনি, উনি মারা গেছেন। শহরের কর্তৃপক্ষই হয়তো একটি শোকসভা করে তা বিশ্বকে জানাতেন, কিন্তু সেখানেই হল সমস্যা।"

ট্যুরিস্টের মনে পড়ল, সত্যিই, এই গায়কের মৃত্যুসংবাদ সেভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি নিজে এঁর এত বড় ভক্ত শ্রোতা হয়েও বহুদিন বাদে লোকমুখে জেনেছেন যে, গায়ক মারা গেছেন। গাইড জানালেনঃ

কিছু বছর আগে যখন এক বিষণ্ন অপরাহ্নে গায়কের মৃত্যু হল, শহরের শোকাভিভূত নাগরিকেরা দল বেঁধে এল মৃতদেহ নিয়ে শেষকৃত্য করতে। প্রথা মেনে সমস্ত কাজ করে তারা সন্ধেবেলা ফিরে গেল আবার। পরের দিন সকালে আবার অনেকে এল, কারণ এই সমাধিক্ষেত্রে শিল্পীদের সমাহিত করার পরের দিন সকালে দেখা যায়, পরমকারুণিকের কৃপায় একটি ফুলগাছের চারা জন্ম নিয়েছে নতুন সমাধির পাশে। কিন্তু পরদিন যারা এলো, তারা দেখে অবাক হয়ে গেল যে, কোনো ফুলগাছ তো নেই-ই তার বদলে এলোমেলো লণ্ডভণ্ড হয়ে রয়েছে সমাধিটি, যেন কেউ মাটি খুঁড়ে প্রবল আক্রোশে তুলে আনতে চেয়েছে মৃতদেহ। আবার রীতি মেনে সমাহিত করা হল গায়ককে। পরের দিনও একই দৃশ্য। এই সমাধিক্ষেত্রটির সঙ্গে কিছু অলৌকিক কাহিনী জড়িত থাকায় কেউই এখানে প্রহরীর কাজ করতে রাজি হয় না। তার কোনো প্রয়োজনও পড়েনি এতদিন। কিন্তু পর পর দুদিন একই ঘটনা ঘটার পরে গায়কের এক দুঃসাহসী ভক্ত স্থির করল, সেইদিন রাতে সে পাহারা দেবে এখানে।

ট্যুরিস্ট মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন, বলে উঠলেন, "তারপর?"

গাইড গলার স্বর নামিয়ে আনলেন, "পরদিন সে যখন আসল কথাটি বলল, আমরা কেউ বিশ্বাস করতেই পারিনি। তারপর আরো অনেকে রাত্রে দেখেছে, নিজের চোখে দেখেছে সেই দৃশ্যটি। এমনকি আমি নিজেও দেখেছি। এখন আর অবিশ্বাস করার কোনো জায়গা নেই, কর্তৃপক্ষ তাই গাছ দিয়ে আড়াল করে দিয়েছেন ওই সমাধিটি।"

ট্যুরিস্ট বললেন, "কিন্তু ঘটনাটি কি?"

গাইড প্রায় ফিসফিস করে বললেন, "উনি মারা যাননি। আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি দেশে ট্যুর করার সময়, কোনো এক অশুভক্ষণে উনি ভ্যাম্পায়ারের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন অতীতে। উনি ভ্যাম্পায়ার হয়ে গেছেন। আনডেড। প্রতিদিন সূর্যাস্তের পরে নিজের হাতে কবরের মাটি সরিয়ে উঠে আসেন। সেই অসামান্য প্রজ্ঞাবান মানুষটি আর নেই, এখন এক বিকৃত পিশাচে পরিণত হয়েছেন উনি। নিজে মুক্তি পাননি, তাই মৃত সঙ্গীতশিল্পীদের প্রতি অসম্ভব বিদ্বেষ তাঁর। সমস্ত রাত অকথ্য গালাগাল করেন তাঁদের, থুতু দেন তাঁদের সমাধিতে, তারপর ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে ফিরে যান মাটির নিচে অন্ধকারে।"

ট্যুরিস্ট বললেন, "আপনারা কোনো ব্যবস্থা নেননি?"

গাইড হতাশায় মাথা নেড়ে বললেন, "এক্সরসিজমের কথা উঠেছিল একবার। কিন্তু...", গাইড দিকচক্রবালের কিনারে নেমে আসা সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলেন, "গোটা শহরে ওঁর এত ভক্ত, এত গুণগ্রাহী, এত ফ্যান ফলোয়িং। তারা রাজি হল না। তারা দাবি করল, উনি মৃত্যুহীন প্রাণ, মহামানব। উনি যা করে গেছেন, তা বুঝবার সাধ্য আমাদের নেই। তার জন্য আরেকবার ওঁকেই জন্মাতে হবে। তা যখন সম্ভব হচ্ছে না, তখন আমাদের কোনো অধিকার নেই এক্সরসিজম করার। কারণ তাদের যুক্তিতে, ওঁর মৃত্যু হয়নি, হতে পারে না। ওঁকে এভাবেই বেঁচে থাকতে দিতে হবে। নাহলে তারা শহর অচল করে দেবে। আমরা তাই আর কিছু করিনি, শুধু সমাধিক্ষেত্রটিকে হোলি ওয়াটার দিয়ে মন্ত্রঃপূত গণ্ডীতে ঘিরে দিয়েছি। বুঝতেই পারছেন, ওঁকে বেরোতে দিলে ব্যাপারটা সুখকর হবে না।"

৪.
ট্যুরিস্ট ভদ্রলোক হয়তো এই আজগুবি গল্পের প্রতিবাদ করতেন, কিন্তু হঠাৎ তাঁর কানে এল পিছনদিকে কোথাও খস খস করে মাটি খোঁড়ার শব্দ। গোটা সমাধিক্ষেত্রে এতক্ষণে আর একটিও জনপ্রাণী নেই, ফলে ওই শব্দের উৎস নিয়েও আর কোনো সংশয় রইল না তাঁর। এতক্ষণে তাঁরা এসে পৌঁছেছেন দুর্ঘটনায় মৃত সেই তরুণ গায়কটির সমাধির পাশে। আক্ষেপে মাথা নেড়ে গাইড বললেন, "ভাবুন তো, কেউ কত অল্প বয়সে, অকালে চলে যায়। আর কেউ কেউ, মরার সময় পেরিয়ে গেলেও, প্রভূ যীশু আমায় ক্ষমা করুন, মরতে চায় না।" অপরিসীম ক্লান্তিতে, হতাশায়, খানিকটা ভয়েও ট্যুরিস্ট বিহ্বল। তিনি কথা বলতে পারলেন না, শুধু মাথা নাড়লেন ধীরে ধীরে।

যখন সন্ধে নামছে, দুজনে ঠিক তার আগে সমাধিক্ষেত্রের কারুকার্যখচিত গেট পেরিয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। গোটা এলাকাটার ওপর কেমন যেন একটা অশুভ, থমথমে ভাব চেপে বসেছিল এতক্ষণ। অথচ, হোলি ওয়াটারের গণ্ডিটি পেরোতেই সেই ব্যাপারটি এক লহমায় কেটে গেল। গাইড হাঁফ ছেড়ে কিছু একটা বলতে যাবেন, হঠাৎ সমাধিক্ষেত্রের ভিতর থেকে ভেসে এল পা টেনে টেনে হাঁটার শব্দ। গাইডের হাত শক্ত করে চেপে ধরলেন ট্যুরিস্ট। গাইড বললেন, ভয় পাবেন না। গণ্ডীর বাইরে আসার ক্ষমতা নেই পিশাচের।

গাছের গণ্ডী দিয়ে সযত্নে আড়াল করে রাখা জায়গাটি থেকে টলতে টলতে বেরিয়ে এল একটি দীর্ঘকায়, মুণ্ডিতমস্তক মূর্তি। তার হাঁটাচলার মধ্যেই এমন একটি অপ্রাকৃত ব্যাপার ছিল, ট্যুরিস্ট বুঝলেন, ও মূর্তি কোনো জীবন্ত মানুষের নয়। অতৃপ্ত কামনার লালা ঝরে পড়ছিল তার মুখ থেকে, পচা মাংসের গন্ধ ভেসে আসছিল। পিশাচ এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল একবার। তারপর অব্যর্থভাবে সমাধিক্ষেত্রের গেটের এপারে দাঁড়িয়ে থাকা হতভম্ব মানুষদুটির দিকে তাকিয়ে, চিরপরিচিত ভরাট গলায় গর্জে উঠলঃ

"শালা মাকুনকুশিরদাঁড়াগাঁড়াধাঁড়া কৃমির বাচ্চা..."

কানে আঙুল দিয়ে দুজনে প্রায় দৌড়তে লাগলেন শহরের দিকে।

***
[এই লেখার সমস্ত ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক। জীবিত বা মৃত, মৃত্যুঞ্জয়ী বা আনডেড কারো সঙ্গে কোনোরকম মিল পাওয়া গেলে তা একান্তই কাকতালীয়।]

Thursday, July 28, 2016

হ্যালোউইন



নিশিরাত, বাঁকা দাঁত, ফ্যাকাশে
চুপি চুপি বাদুড়েরা আকাশে, আকাশে
নিশিরাত, বাঁকা দাঁত, ফ্যাকাশে
চুষে চুষে খুন খাবে একা সে, একা সে

ভাঙা বাড়ি, কবেকার সে কবর
হোক ভাঙা, ড্রাকুলা কি আসে না?

আনডেড-এ ভরে গেল এদিগর
ভ্যাম্পায়ার ক্ল্যান করে রচনা

এ জীবনে যত ভূত চেয়েছি
ট্রানসিলভ্যানিয়াতে পেয়েছি, পেয়েছি।

ভ্যাম্পায়ার ভরা পথে চলিতে
হোলি ওয়াটার গেল ফুরায়ে

রোদ নামা পাহাড়ে গোধূলিতে
সিলভার ক্রস পেল আজ কুড়ায়ে

এ জীবনে যত ভূত চেয়েছি
ট্রানসিলভ্যানিয়াতে পেয়েছি, পেয়েছি।



মুখড়া কার্টসিঃ Riturupa
আইডিয়া কার্টসি ও ভ্যাম্পায়ার কার্টসিঃ DebarghaRupama
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়


***
৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৫

Thursday, July 21, 2016

টিপসি বাংলা



বাংলার মুখ আমি খুলিয়াছি, তাই আমি অন্য কোনোরূপ
চাখিতে যাই না আর; অন্ধকারে জেগে উঠে প্যানিক অ্যাটাকে
চেয়ে দেখি, সিজিও কমপ্লেক্সে ঘাপটি মারিয়া থাকে
দুর্মদ সিবিআই- চারিদিকে চেয়ে দেখি মিডিয়ার দল
বিজেপির, অভীকের, বামেদের- করে কোলাহল
এ আকালে আমাদের পাঁচু রায় চুপ করে আছে
আমানত টাকা থেকে না জানি সে কবে ডেলো বাংলোর কাছে

পেটি ভাগাভাগি হত, আহা, সব নেপো খেয়ে গেলো দই
দেখেছিনু, নেত্রীও একদিন ভাগীরথী জলে ভেলা নিয়ে
চৌত্রিশ বছরের দুর্গ যখন ধ্বসিয়া গেছে কড়া গণ্ডায়-
সোনালি ধানের পাশে টাটা ও সালেম বটে দেখেছিল, হায়
এই যে মওকা তাও বুঝেছিল- একদিন সিঙ্গুরে গিয়ে
এখন মজেছি আমি, নিশির কুটুম্ব হয়ে ললাটের দায়
বাংলার শিশি গ্লাস ভাঁটিখানা কোথা গেল; বেড়ি দুই পায়।








***
১২ই ডিসেম্বর ২০১৪

এক খাঁটি ধড়িবাজ



বন্ধুরা, কমরেডরা, অনেক আদর। শত্রুরা, অনেক খিস্তি। দ্বন্দ্বমূলক খিস্তিবাদ। একটা গান লিখে দেখান এই মোল্লার মত। য়্যাখনো ব্যাণ্ডউইদ কাঁপে রাতের দিকে, টরেন্ট চালানো থাকলে ফেসবুক খুলতে চায় না। তবু লিখুন। দেখি কত বড় বাপের ব্যাটা এসেছেন। একটা গান। য়ামি একটা লিখলাম।


এক খাঁটি ধড়িবাজ কানে গোঁজা ঘাসফুল
জামাতি খেয়াল গান, তলে তলে তৃণমূল

বয়স যতই হোক কলম চালাচ্ছে
জামাতের নায়েবরা লোকটাকে ডাকছে
এগারোয় বিক্ষোভ, দুহাজার চোদ্দ
ডিগবাজি খেতে শিখে নিয়েছে সে সদ্য

নবী যত গর্জান চ্যালা তত ধমকায়
কানাডায় ডেডপুল প্রভূত আদর পায়
শান দেওয়া মাঞ্জায় দ্রুপদ ভোঁকাট্টা
লাইক তবুও দেখি টেনেটুনে আটটা

ক্যাডার বাবুটি ভাবে রেট কমে যাচ্ছে
তেহরিক-ই-সুমনের গদি ফসকাচ্ছে
"নবীজির দরবারে খাতির ঘোচাবি কি?"
ক্যাডার বাবুটি দেন ডিলিটের হুমকি

নবীর ফতোয়া শুনে সম্বিৎ ফিরে পায়
কেউটেরা কৃমি হয়, নলকূপ কেঁদে যায়

নবী একা পারবে কি এই বোঝা টানতে
সুমনসেবকরা পারবে কি জানতে
যে লোকটা প্রাণপণে ভাট বকে যাচ্ছে
পেট্রোডলার তাকে রসদ পাঠাচ্ছে
এক খাঁটি ধড়িবাজ, কানে গোঁজা ঘাসফুল
শিরদাঁড়া জমা রেখে আবার সে তৃণমূল
এক খাঁটি ধড়িবাজ...




***
১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

Monday, July 11, 2016

পাগলী তোমার সঙ্গে রিভিজিটেড



পাগলী তোমার সঙ্গে লিফলেট জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে ব্র্যাণ্ডনেম কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে পোস্টার জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে মার্লবরো কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে বিপ্লব জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সেলফিতে কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে স্ট্রিটকর্নার জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে পিটারক্যাট কাটাবো জীবন


দলবৃত্তে পাখিপড়া কেটে যাবে এই দিনকাল 
স্বপক্ষে সকলে শ্রেষ্ঠ, মতান্তর হলেই দালাল 
পাগলী তোমার সঙ্গে পোস্ট চাই জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে দলাদলি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে লিটলম্যাগ জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে জেটল্যাগ কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে অবস্থান জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে বারিস্তা কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে হাল্লাবোল জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে হুইস্কিসোডা কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে এলজিবিটি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সাউথসিটি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে 'জাস্ট ফ্রেণ্ড' জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে 'চলো শুই' কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে গাড়ি রোকো জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে রেকো চেয়ে কাটাবো জীবন


বছর পাঁচেক যাবে, চোখে ফুটবে জ্ঞানবৃক্ষ আলো 
কনভোকেশন সেরে "ভাবছি ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো" 
পাগলী তোমার সঙ্গে বিজি আছি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে পরে যাবো কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে বস্ত্রদান জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে লিভাইস কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে গণতন্ত্র জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে হায়ারার্কি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে নন্দীগ্রাম জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে ফ্লিপকার্ট কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে নিয়মগিরি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সিঙ্গাপুর কাটাবো জীবন


বুর্জোয়া শিক্ষা হবে সমালোচনায় ছারখার 
টেবিল চাপড়ে পার করে দেবো গোটা সেমেস্টার 
পাগলী তোমার সঙ্গে মতবাদ জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে তোতাপাখি কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে "ভেঙেদ্দাও" জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে আইনক্স কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে "দূর হটো" জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে আইফোন কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে নবারুণ জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে সাল্লুভাই কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে জেণ্ডার ইস্যু জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে 'চোপ মাগী' কাটাবো জীবন


পাগলী তোমার সঙ্গে সংগ্রাম জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে 'ভুল ছিলো' কাটাবো জীবন 
পাগলী তোমার সঙ্গে বয়কট জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে জিআরই কাটাবো জীবন


নেচে উঠবে বোকা লোকে, জলে দেবে দু-চার বছর 
কারা যাবে ডালে ডালে, আমি আছি পাতার ওপর 
পাগলী তোমার সঙ্গে এমএনসি জীবন কাটাবো 
পাগলী তোমার সঙ্গে এনআরআই কাটাবো জীবন


উৎসর্গঃ হার্ভি ডেন্ট অকৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ জয় গোঁসাই


জীবিত বা মৃত কোনো ব্যক্তির সাথে অনিচ্ছাকৃত মিল থাকলে (তাদের) ক্ষমা করে দেবেন।






-২৩শে জুলাই, ২০১৫

একটি ছ্যাপলিটিক্যাল রসিকতা



একবার এক চাড্ডি, এক মুমিন আর এক লিবারবাল গেছে তপস্যা করতে, যার যার ঈশ্বরের সন্ধানে। ধ্যানফ্যান করছে সবাই।

মুমিনের বিশ্বাস সবথেকে বেশি, একটু পরেই রসুল এসেছেন বোররাকে চড়ে।

-কি চাই, বান্দা?
-হজরত গরিবপরবর, এমন একটা চাপাতি দিন যা দিয়ে এক কোপে একশো কাফেরের কল্লা কাটা যাবে।

রসুল জোব্বার ভিতর থেকে চাপাতি বার করে দিয়ে ফিরে গেলেন।

তারপর এলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম রাম, ধনুক ফনুক নিয়ে। কেলটে মত দেখতে, চাড্ডি প্রথমটা শালা দলিতের বাচ্চা বলে ক্যালাতে যাচ্ছিল। তারপর নবদূর্বাদলশ্যাম মনে পড়ায় থেমে গেল।

-কি চাই বৎস?
-প্রভো, দলে দলে হিন্দু নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে। এদের তোল্লাই খেয়ে দলিতগুলোরও হেবি বাড় বেড়েছে। এদের সবক শেখাতে কিছু অস্ত্রশস্ত্র দিন আমাদের।

রাম কোমর থেকে শম্বুক'স বেন বলে একটা তরবারি বার করে দিয়ে চলে গেলেন।

লিবারবাল বসে আছে তো বসেই আছে। বিশ্বাস কম, কনফিউশন বেশি বেচারার। কেউ আর আসে না। শেষে যখন উঠি উঠি করছে, তখন দেখে রাবণের মত দশমাথার কে একটা আসছে। কাছে আসতে দেখে একই দেহে মার্কস, লেনিন, বাকুনিন, মাও, হো চি মিন, এনভর হোজ্জা, স্তালিন, ট্রটস্কি, শিবদাস, চারুবাবু ইত্যাদি সবার মুণ্ডু। লিবারবাল গেছে ঘাবড়ে।

-এত মাথা কেন কমরেড?
-আসলে তুই কোন ফ্যাকশনের বুঝতে পারিনি তো, স্তালিন সেজে এলাম আর তুই ট্রটস্কাইট বলে বর নিলি না হয়তো। তাই রিস্ক নিইনি, বিশ্বরূপে এসেছি। বল কি চাই?
-আজ্ঞে কমরেড, মানে কমরেড...
-নির্ভয়ে বল। দণ্ড মুকুট ছত্র সিংহাসন বিধানসভা কমিন্টার্ন যা চাস...
-আরেকটা এক্সট্রা জিভ দেবেন কমরেড? ইসলামিস্টদের পা চাটবো।

Friday, July 8, 2016

যাদববিজয়

কিন্তু কী করিয়া দেশদ্রোহীদের খবর পাওয়া যাইবে? একশত মিটার ব্যারিকেড ডিঙাইতে পারিলে তবে তো যাদবপুর। আর সেই যাদবপুরে যাইলে তবে তো দেশদ্রোহীদের ঠ্যাং ভাঙিয়া লওয়া যায়। বানরেরা থানার ধারে আসিয়া অবাক হইয়া বসিয়া রহিল। এত বড় ছাত্রছাত্রী সমাবেশ পার হইয়া দেশপ্রেম রমণ করিতে যাওয়া বড়ই কঠিন দেখা যাইতেছে। এ কাজ কে করিবে?

তখন কৈলাস বলিল, তোমরা তো সকলেই খুব বড় বীর। বল দেখি ভাই, কে কতদূর লাফাইতে পার?

কৈলাসের কথা শুনিয়া দেবশ্রী বলিল, 'আমি ক্রেডিট ওয়াচ অব্দি লাফাইতে পারি।' রাহুল বলিল, 'আমি স্টেট ব্যাঙ্কের এটিএম অব্দি লাফাইতে পারি।' সুবীর বলিল, 'আমি ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্ট অব্দি লাফাইতে পারি।' জয় ব্যানার্জি হুঙ্কার ছাড়িয়া বলিলেন, 'আমি দক্ষিণাপণ অব্দি লাফাইতে পারি', লোকে তাহাকে 'থাম থাম, উহা উল্টোদিকে' বলিয়া বার করে দিল। রূপা বলিল, 'আমি পলিটেকনিক অব্দি লাফাইতে পারি, কিন্তু ভ্যানিটি ভ্যান ব্যারিকেড পার করিয়া লইয়া কে যাইবে?'

সকলের কথা শুনিয়া কৈলাস বলিল, 'আমি একশত মিটার ব্যারিকেড ডিঙাইতে পারি। কিন্তু ফিরিয়া আসিতে পারিব কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ হইতেছে।'

তখন দিলীপ বলিল, 'হে খোট্টাপুত্র, তুমি ইচ্ছা করিলে লাফাইয়া প্রেসিডেন্সিতেও গিয়া পড়িতে পার, কিন্তু নিজে তাহা করিতে যাইবে কেন? মাওড়া খোট্টার কি পরিশ্রম সাজে? তুমি হুকুম দিবে, বাঙালি দালালগুলা কাজ করিবে।'

***
অনুপ্রেরণায় যাদবপুরের জনৈক দেশদ্রোহী এবং উপেন্দ্রকিশোর বলে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। উপেন্দ্রকিশোর সম্ভবত পাকিস্তানি, কারণ তার বেশ লম্বা দাড়ি ছিল।

গোরস্থানে সাবধান অথবা তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী

১. মধ্য য়ুরোপের একটি বিখ্যাত শহরের আউটস্কার্ট। হাইওয়ের থেকে কিছু দূরে, বিশাল বড় বড় গাছের ছায়া ঘেরা একটি সুন্দর সমাধিক্ষেত্র। বহুদূর থেকে এ...