সকল জাতিরই প্রায় এমন না এমন এক দিন উপস্থিত হয়, যখন লক্ষ্ণী আসিয়া বলেন, "হয় লিবারাল সতীপনা ছাড়, নয় আমায় ছাড়।" অনেকেই উত্তর দেন, "মা! তোমায় ছাড়িলাম, লিবারালপনা ছাড়িতে পারি না।" বাঙালি জাতি তাহাদেরই একজন, বঙ্গলক্ষ্ণীকে যাহারা চল্লিশ দশকের শুরুতে এবম্প্রকার হাজির জবাব দিয়াছিল। ননকম্যুনালিটির নামে স্বজাতির সর্বনাশ, উদারতার সংস্কৃতি, লিবারাণপনা পূর্বমতই হইতে লাগিল- বরং মুসলিম লিগে অর্ধেক বাঙ্গালা লুঠিয়া লওয়া অবধি লিবারালপনার বাড়াবাড়িটা কিছু বাড়িয়াছিল, খরচে আর কুলায় না। বেহার, যুক্তপ্রদেশ, পূর্বপাকিস্তান, আসাম হইতে বাঙালি উচ্ছেদ হইতে লাগিল। স্বয়ং পশ্চিমবাঙ্গালায় যাহা কিছু অবশিষ্ট ছিল, মেড়ো-খোট্টার হাতে তাহাও বিক্রয় হইয়া যায়, আর থাকে না। দেনার উপর দেনা হইল, সুদে আসল ছাপাইয়া উঠিল- ভারতের মঞ্চে বাঙালির আর পাত্তা পাওয়া যায় না।
বাঙালি মোগল নহে, ইহারা হাঁড়ি ফেলে, কিন্তু কুকুর মারে না। হিন্দিওয়ালা-উর্দুওয়ালাদের পাওনা প্রায় পঞ্চাশ বছর বাকি পড়িল। বাঙালি কিছুতেই পাল্টা দিতে পারে না- শেষ বাঙালিকে উচ্ছেদ করিবার জন্য পরওয়ানা বাহির হইল। এখন বাঙালির মাৎসিনি-গারিবল্ডি-দ্য গল-ডি ভ্যালেরা কিছুই জুটে নাই, নিদেন পোট্টি শ্রীরামুলুও নাই। সকলই এখন বেদখল।
পরের জমানায় রাজ্যে হুলুস্থুল। ঘরে ঘরে খোট্টা-বাঙালি, পথে পথে বং-বাঙালি। মেড়োখোট্টায় দেশ ছাইয়া গিয়াছে, আর রক্ষা নাই। যখন সকলে শুনিল মোহতা-ধানুকারা সংস্কুতিটুকুকেও খাইয়াছে, তখন শিক্ষিত মানুষ দলে দলে রাজ্য ছাড়িয়া পলাইয়া গেল। বাঙালি বোকা হইয়া রহিল; বাঙালির রাজ্য হিন্দিওয়ালা-উর্দুওয়ালায় ছাইয়া গেল।
বাঙালি মোগল নহে, ইহারা হাঁড়ি ফেলে, কিন্তু কুকুর মারে না। হিন্দিওয়ালা-উর্দুওয়ালাদের পাওনা প্রায় পঞ্চাশ বছর বাকি পড়িল। বাঙালি কিছুতেই পাল্টা দিতে পারে না- শেষ বাঙালিকে উচ্ছেদ করিবার জন্য পরওয়ানা বাহির হইল। এখন বাঙালির মাৎসিনি-গারিবল্ডি-দ্য গল-ডি ভ্যালেরা কিছুই জুটে নাই, নিদেন পোট্টি শ্রীরামুলুও নাই। সকলই এখন বেদখল।
পরের জমানায় রাজ্যে হুলুস্থুল। ঘরে ঘরে খোট্টা-বাঙালি, পথে পথে বং-বাঙালি। মেড়োখোট্টায় দেশ ছাইয়া গিয়াছে, আর রক্ষা নাই। যখন সকলে শুনিল মোহতা-ধানুকারা সংস্কুতিটুকুকেও খাইয়াছে, তখন শিক্ষিত মানুষ দলে দলে রাজ্য ছাড়িয়া পলাইয়া গেল। বাঙালি বোকা হইয়া রহিল; বাঙালির রাজ্য হিন্দিওয়ালা-উর্দুওয়ালায় ছাইয়া গেল।
No comments:
Post a Comment